পাঠকের স্বরচিত কবিতা 25/03/2018

নারী তুমি
রফিকুল হক

নারী তুমি নও দুর্বল,নও অবোলা,
তুমি এই পৃথ্বির অনশ্বর চঞ্চলা।
তোমার বিগ্রহে ভরা উজ্জ্বল দীপ্তি,
তুমিই গোটা বিশ্বের একমাত্র প্রসূতি।

তোমার অগ্রপানে নত জ্বলন্ত ভাস্কর,
তোমার লাবণ্যে পরাজয় কলঙ্কহীন সুধাকর।
তুমিই অভীক,তুমিই অপরাজিতা,
তুমিই পাপিষ্ঠ নর’র ভয়ংকর বিনাশীতা।

নারী তোমার বহ্মপানে উৎপন্ন মমতার অর্ণব,
তোমার দু-বাহুতে প্রবাহমান স্নেহের তরঙ্গিনী।
নারী তুমিই কন্যা,তুমিই বধূ,তুমিই মাতা,
দিব্যলোক তোমার চরণ-তলে বলেছে জগৎ-দাতা……।।।

অজানা প্রেমটা
রফিকুল হক

অজানা প্রেমটা বুঝি বড্ড অদৃশ্য,
নতুবা কিছুটা জ্যোতি,আর কিছুটা তমস্র।
রাতের ঘন আঁধারেও বিগ্রহের সম্মুখে,
ফুঁটে উঠে এক অজানার ঔজ্জ্বল্ল অঙ্গ।

কখনো-কখনো নিশির খোলা অন্তরীক্ষে
হঠাৎ ভেসে উঠে এক ডানাহীন উরন্ত পরী।
মনে হয় সে তীব্র অভিলাষে মর্মিত হয়ে,
আমায় চুপি-চুপি ডেকে যায় তারাদের আড়াল থেকে।

অবার একাধিক বারও হৃদাঙ্গিনায়,
জাগ্রত হয়েছে অজস্র সংশয় বার্তা।
এটাকি বাস্তব,না মরু’র মরীচিকা,
না ঘুমের ঘরে অবস্থিত স্বপ্নের বিরাজমান এক অদৃশ্য দেশ।

শত চেষ্টার জোরেও খুঁজে পায় না উত্তরের সেই পৃষ্ঠাটা,
মনের সহস্ত্র আকাঙ্ক্ষার তরী বয়েও।
পৃষ্ঠাটা খুঁজে পাওয়া বড়ো হল কঠিন আর কষ্টকর,
তবুও হৃদয় থেমে দাঁড়ায়নি,অবিরত ছুঁটে চলছে সেই
অজানা প্রেমটার সাক্ষাৎ পেতে…।।

মূর্ছিত গোলাপটি হাতে নিয়ে
রফিকুল হক

দিন…বহু দিন ধরে মূর্ছিত
গোলাপটি হাতে করে,
হেঁটে চলেছিলাম এক অপরাজিতার হৃদয়ের সঙ্গে
আমার অধীর আত্মার দৈবাৎ ঘটিয়ে।

ধূলোর কোমল গায়ে পড়া তাঁর পায়ের ছাপে
আমিও হেঁটে চলেছিলাম মিলিয়ে মোর দু-পা খাপে খাপে,
গিয়েছিলাম হেঁটে দূর-বহু দূরে
জীবনের সকল উল্লাস উৎহ্মাত করে।

চলতে চলতে সে অজানা এক প্রান্তরে
হঠাৎ দেখেছিলো আমায় পিছন ফিরে,
সেদিন বিন্দু মাত্র সাহস জুঁটেনি ভীতাশ্রিত বুকে
শুধু তাঁর মায়াবী দু-চোখে
আমার তৃষ্নার্থ নয়ণ দুটো মিলিয়ে
হারিয়ে গিয়েছিলাম এক অজানা জগতে।

হারিয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সীমাহীন রুপের
ঔজ্জ্বল্ল ঘন আধাঁরে,
সেদিন নিজেকে নিজেই হারিয়ে ছিলাম
স্রোতহীন এক স্তব্ধ মায়াবী নদীর বহ্ম মাঝারে….।।।

ভ্রষ্টাচারের আগুন
রফিকুল হক

ভ্রষ্টাচার,ভ্রষ্টাচার,শুধুই ভ্রষ্টাচার,
আজ দেখো চারিদিকে ছেয়ে গেছে তারিই কারবার।
প্রান্তে-প্রান্তে চিতার আগুনের মতো,
ধাঁও-ধাঁও করে জ্বলছে অবিরত।
নিভেনা আগুন হাজার চেষ্টারও জোরে,
মনে হয় কেরোসিনের খনি রয়েছে তার ভিতরে।
নিভাবে কে এই আগুন?
পুড়াবে কে তাঁর হাতের আঙ্গুল।
এই ভ্রষ্টাচারের আগুন বাধা না পেয়ে,
চলেছে অনবরত কেরোসিন তেলের পথ বেয়ে।

এই বিরামহীন আগুনের জোরে,
কোটি-কোটি মানুষ পুড়ছে অকারনে।
চারিদিকে আতঙ্ক আর হাহাকারে,জমেছে ঠাসাঠাসি ভিড়-ভাড়।
এতে মানুষ খুঁজে পাই না,
একটু খানি জায়গা বাঁচার।
বেরে চলেছে সেই আগুন,
সব কিছুকে করে চুরমার।
আর অসহায় মানুষ বড়ো নিরুপায় হয়ে,
আকাশের মেঘভাঙ্গা বৃষ্টির আগমনে,
হাত-পা গুটিয়ে বসে রয়েছে আশার বৃষ্টির পথ চেয়ে।

যে গর্জিত বৃষ্টি,সকল ভ্রষ্টাচারের আগুন,
একদিন নিয়ে যাবে ধুয়ে-মুছে-বয়ে……।।।

********************

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*